বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার মর্যাদা ও নির্দিষ্ট ঘর না-পাওয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধল রাজ্যে। বুধবার বিকেলে বিধানসভা ভবনে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অভিযোগ, অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শেষ হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রধান বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট ঘরও বরাদ্দ হয়নি বলে দাবি তৃণমূলের।
এই অভিযোগ জানাতেই বুধবার স্পিকারের কক্ষে যান শোভনদেব ও কুণাল। তবে তাঁদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও স্পিকারের সাক্ষাৎ মেলেনি। এরপরই স্পিকারের ঘরের বাইরে অবস্থানে বসেন দুই তৃণমূল বিধায়ক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।
সেখানে দাঁড়িয়েই কুণাল ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উনি বিরোধী দলনেতা, ৩৬ বছরের বিধায়ক। তাঁকে ঘর দেওয়া হবে না, তাঁর চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার হবে না— এটা কীভাবে সম্ভব? সচিবকে পর্যন্ত দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্ধেক সময় ফোনও তোলা হচ্ছে না। পরিষদীয় দলের বৈঠক পর্যন্ত করা যাচ্ছে না।”
কুণাল আরও প্রশ্ন তোলেন, বিধানসভা ভবনে স্পিকার ও মুখ্যমন্ত্রীর ঘর প্রস্তুত হয়ে গেলেও কেন এখনও বিরোধী দলনেতার জন্য ঘর বরাদ্দ করা হয়নি। তাঁর কথায়, “এটা শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, রাজনৈতিক সৌজন্যেরও প্রশ্ন।”
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে ৮০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তৃণমূলের দাবি, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি পেতে যেখানে ন্যূনতম ৩০ জন বিধায়কের প্রয়োজন, সেখানে তাঁদের সমর্থন সেই সংখ্যার অনেক বেশি। তা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না-মেলায় প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
বুধবারের এই অবস্থান কর্মসূচির পর বিরোধী রাজনীতির আবহে নতুন করে চাপ বাড়ল বিধানসভা চত্বরে।


No comments:
Post a Comment