Breaking

Friday, October 28, 2022

স্বাধীনতা সংগ্ৰামীরা শুরু করেছিলেন শক্তি আরাধনা, বাঙালপুর বয়েজ ক্লাবের শক্তি আরাধনার শতবর্ষ পূর্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট, বাগনান, হাওড়া :- প্রত্যেক পূজারাই একটা ইতিহাস থাকে। এই পূজার সূত্রপাতের কাহিনী একটু ভিন্ন। জানা গেছে, এই অঞ্চলের কিছু উৎসাহী ব্যক্তিদের উদ্যোগেই সূত্রপাত হয় এই পূজার। 

কথিত আছে, গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার বাঙালপুরের পাড়ায় পাড়ায় তখন চলত কুস্তি, লাঠি খেলার মতো শরীর চর্চার আখড়া। বাঙালপুর ঘাঁটি পাড়ার আখড়ায় নিয়মিত সদস্য ছিলেন জীবন বসু, জীবন ঘাঁটি, কেষ্ট বসু, মম্মথ ঘোষ, প্রভাস ঘোষ, সাতকড়ি ঘোষ, প্রভাত ঘোষ, ভোলানাথ ঘোষ, সনৎ বসু (সোনু) ঘোষ প্রমূখ ব্যক্তিবর্গরা। 

এই সমস্ত ব্যাক্তি বর্গের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এলাকায় একটি কালীপূজা করার। শক্তির আরাধনা শুরু হয় ১৯২১ সালে। কালীপূজার সূচনা পর্বের সময়, গান্ধিজীর ডাকে তখন সারাদেশ ব্যাপী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। বিভূতি ঘোষ এর নেতৃত্বে বাঙালপুর গ্ৰামের মানুষজন গান্ধিজীর এই আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করলেন। এই সত্যাগ্ৰহীরা শরীর চর্চার পাশাপাশি নিজেদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য শুরু করেন মাতৃ আরাধনা। 

আসলে পরাধীন জাতির অন্তরে প্রতিবাদী ব্যক্তিত্বকে জাগ্রত করতেই কালীর ব্যক্তিত্বকে অনুসরণ করতেন আন্দোলনকারীরা। শক্তির আরাধনা তাঁদের কাছে ছিল দেশমাতৃকার আরাধনারই সমান। 

দেশ মাতৃকার প্রতি ভক্তি নিবেদনের উদ্দেশ্যেই বিভূতি ঘোষ ও তাঁর অনুগামীরা এই পূজায় সূচনা করেন। এক সময় পূজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় জায়গায় সমস্যায়। সেই সময় এই পূজা পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব এর সদস্যরা। এই পূজাটি স্থানান্তরিত হয় বয়েজ ক্লাব সংলগ্ন মাঠে। সেই থেকেই বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব এর পরিচালনায় এই পূজা হয়ে আসছে। এই পুজো আজ আলোকিত শতবর্ষের আলোকে।

বিগত দশ বছর ধরে সাবেকিয়ানার পাশাপাশি মন্ডপ সজ্জায় সংযোজিত হয়েছে নানাবিধ থিম। এবছর বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব এর মন্ডপ ভাবনা ' মা আসছে মাটির টানে '। আসলে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক মাটির সঙ্গে। মন্ডপ টি পরিবেশ বান্ধব জিনিস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব এর মাধ্যমে বাংলার মাটির শিল্পকে ও শিল্পীদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন। 

মন্ডপ জুড়ে মাটির ছোঁয়া।মন্ডপের এক প্রান্তে কুমোর পাড়ার হাঁড়ি - কলসি তৈরির দৈনন্দিন চিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে। আবার মন্ডপের আর এক প্রান্তে ঠাকুর গড়ার ভাবনাকে তুলে ধরা হয়েছে। মাটির সুন্দর শিল্পকর্ম গোটা মন্ডপ জুড়ে দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সাবেকী প্রতিমা মন কেড়েছে দর্শকদের। মাটি, খড়, কাঠের মতো বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব জিনিস ব্যবহার করা হয়েছে মন্ডপ সজ্জায়।

এই পূজা মন্ডপের শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ মিমি চক্রবর্তী, বাগনান এর বিধায়ক অরুনাভ সেন (রাজা), বাগনান ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পঞ্চানন দাস, বাগনান ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৌসুমী সেন, বাগনান থানা আইসি অভিজিৎ দাস, বাগনান ১ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অভিষেক দাস সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অথিতি ও ব্যক্তিবর্গরা।

শক্তি আরাধনার শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় স্মরনিকা 'স্মরণে শতবর্ষ '। মন্ত্রী পুলক রায় এর হাতেই উদ্বোধন করা হয় এটি। 


No comments:

Post a Comment

Adbox